আন্তর্জাতিক মিত্রের সন্ধানে বেগম জিয়া এবং বিএনপি রাজনীতির ভবিষ্যত। লিখেছেনঃ সাঈদ তারেক

চীন ঘুরে এলেন বেগম জিয়া। হতে পারে আগে থেকেই কথাবার্তা আচার-আয়োজন হচ্ছিলো। কিন্তু গেলেন তিনি যেন হঠাৎ করেই। পাঁচ দিনের সফর শেষে ফিরেও এসেছেন। পত্র পত্রিকায় সফরসঙ্গীরা এ সফরকে ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেছেন।

কেন বেগম জিয়াকে এ সময় হুট করে চীন যেতে হলো ব্যপারটা কৌতুহলোদ্দীপকই বৈকি! চীন বাংলাদেশের পুরনো বন্ধু। আমেরিকার সাথে মিলে �৭১-এ মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা করেছিলো। অবশ্য সেটা করতে হয়েছিলো তাকে পাকিস্তানের সাথে সম্পর্কের কারনে। স্নায়ুযুদ্ধের সেইকালে উপমহাদেশের রাজনীতিতে ভারত পাকিস্তান তখন সোভিয়েত আর চীন দুই বলয়ে। সোভিয়েত ইউনিয়ন যার পে চীন তার পে থাকবে না ব্যপারটা এমনই ছিলো। শত্র�র শত্র� বন্ধু- এই নীতিতে আমেরিকার সাথে যোগ দিয়েছিলো। কিন্তু �৭৫-এর ৪ অক্টোবর কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হওয়ার পর থেকেই চীন বাংলাদেশের পরম মিত্রে পরিনত হয়েছে। এ দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিস্তর সাহায্য সহযোগীতা করছে। টাকা দিয়ে প্রযুক্তি দিয়ে জনবল দিয়ে। বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নেও চীনের ভূমিকা কম নয়। এখনও বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রকল্পে চীনের অর্থায়ন ও সহযোগীতা চলছে।

 

 

                        বেগম জিয়ার চীন সফর অবশ্য এবারই প্রথম নয়। প্রয়াত রাস্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্ত্রী হিসেবে তার সঙ্গে তিনি প্রথম চীন যান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে গেছেন, এবার বিরোধী নেতা হিসেবে। আটবার তিনি চীন সফর করেছেন এ পর্যন্ত। চীনে যেহেতু একটাই পার্টি মতায় আবহমান কাল ধরে, বেগম জিয়ার সাথে তাদের সম্পর্কের ধারাবাহিকতাটাও তাই অটুট আছে। এবার চীনা নেতারা বেগম জিয়াকে উষ্ণ সম্বর্ধনা জানিয়েছেন। বিশেষ মর্যাদা দিয়েছেন, -বিশেষ বন্ধু- হিসেবে তাকে অভিহিত করেছেন।

            বাংলাদেশের বিরোধী দলীয় নেত্রীকে আমন্ত্রন জানিয়ে নিয়ে গিয়ে চীনের এই বিশেষ মর্যাদাদান, সফরকে গুরুত্বপূর্ন বলে তুলে ধরার ব্যপারটা আমার কাছে এমনি এমনি বা নিছক গৎবাঁধা প্রটোকল, রাস্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা মনে হয়নি। বেগম জিয়াও এমনিই পাঁচ দিন অবসর কাটিয়ে এলেন বা চীন দেখে এলেন এমন মনে করারও কারন নাই।

            নানা কারনে বাংলাদেশটা এখন আন্তর্জাতিক প্লেয়ারদের কাছে গুরুত্বপূর্ন হয়ে উঠেছে। তার একটা অন্যতম কারন হচ্ছে আমেরিকার-ওয়ার অন টেরর- এবং বাংলাদেশের নব্বই শতাংশ মানুষ হচ্ছে মুসলমান। যেহেতু মুসলিম সংখ্যাগড়িস্ট দেশ, সেহেতু এখানে সন্ত্রাস লালন হচ্ছে-পেন্টাগনের মাথায় এটা ঢুকিয়ে দেয়া গেছে অনায়াসে। তাছাড়া বাংলাদেশ সেভেন সিস্টারের স্বাধীনতা যোদ্ধাদের অভয়ারন্যে পরিনত হয়েছে। ওরাও সন্ত্রাসী। দুই সন্ত্রাসীর শেকর তুলতে ভারতের দরকার ছিলো বাংলাদেশটা। আমেরিকার কাছ থেকে ইজারা এনেছে। সুযোগটা নিয়েছেন শেখ হাসিনা। ভারত এখন তাকে দিয়ে কাজগুলো করিয়ে নিচ্ছে। এই হিসাবটা সরল অংকের মতো সরল।

            বিএনপি রাজনীতি বা বেগম জিয়ার সমস্যা হচ্ছে, এরা ভারতের কাছে পাড় দনিপন্থী হিসেবে চিহ্নিত। ইসলাম মুসলিম নামধারী সংগঠনগুলো এদের মিত্র সহযোগী। সমস্যাটা হয়েছে এখানেই। ফলে প্রথম দফায়ই তিনি আউট হয়ে গেছেন। টেন্ডার দাখিলেই যোগ্যতাই অর্জন করতে পারেন নাই।

            আমেরিকার সাথে এরেঞ্জমেন্টমতে আপাতত: পাঁচ বছরের জন্য ভারত বাংলাদেশে যা খুশী করে যেতে পারবে, যা ইচ্ছা নিয়ে নিতে পারবে। শেখ হাসিনা তাতে বাধা দেওয়া দুরের কথা, প্রতিবাদ নিদেনপে আপত্তিও তুলতে পারবেন না। ধরে নেয়া যায় টার্মস্ এন্ড কন্ডিশনে এমনটাই লেখা আছে।কোন আপত্তি প্রতিবাদ তিনি করছেনও না। অনেক কিছু আগ বাড়িয়েই দিয়ে দিচ্ছেন। গত সপ্তাহের কলামে এ ব্যপারে আমি বিস্তারিত লিখেছি। এ সপ্তাহে জানা গেলো ভারতীয় এক টেলিফোন কোম্পানী বাংলাদেশের রাস্ট্রীয় মালিকানাধীন বিটিসিএল ও টেলিটকের অবকাঠামো ব্যবহার করে দেশজুড়ে তাদের নেট ওয়ার্ক সম্প্রসারনের সুযোগ পেয়েছে। দেশের ছয়টা মোবাইল ফোন কোম্পানীর কাউকে এ পর্যন্ত এ সুযোগ দেওয়া হয়নি। কেমন সৌভাগ্যভান ভারতের এ কোম্পানীটি, চাহিবামাত্র-প্রাপক-কে দিতে বাধ্য হয়েছি আমরা!

            ওদিকে সারা দেশে টুপীওয়ালা দাড়িওয়ালাদের বিরুদ্ধে -ওয়ার অন টেরর- জারী রয়েছে পুরোদমে। ইসলাম মুসলিম নামধারীদের পাকড়াও অভিযানও চলছে জোড়েশোরে। ধারনা করা যায় পরবর্তি তিন বছরে এদেরকে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে পারলে আসল ব্লু-প্রিন্টটা বাস্তবায়নে আর কোন বাধাই থাকবে না।

            কাজেই সব দিকের হিসাবেই বলে বেগম জিয়ার এখন বেকায়দা অবস্থা। ভারত হচ্ছে বাংলাদেশের            রাজনীতির মূল নিয়ন্ত্রনকারি শক্তি। এটা সেই একানব্বইয়ের পর থেকেই। সেই ভারতের কোন আস্থা বেগম জিয়ার ওপর নাই। দাড়িওয়ালা টুপীওয়ালা বা -মুসলমানদের- সাথে চলাফেরা করেন, সে কারনে আমেরিকার গুড বুক থেকেও নেমে গেছেন। পাকিস্তান ছিলো এক ভালো মিত্র।আমেরিকার পাল্লায় পরে তাদের নিজেদেরই এখন -চাচা আপন পরান বাঁচা- অবস্থা। এমনি একটা পরিস্থিতিতে বেগম জিয়ার এই চীন সফর তাই বিশেষ গুরুত্বপূর্ন বলেই আমার কাছে মনে হচ্ছে।

            একথা সত্য বাংলাদেশের রাজনীতি এখন আর বাংলাদেশের রাজনীতিকদের হাতে নাই।মতার নাটাই তো সেই কবে থেকেই -র- পেন্টাগনের হাতে। বিগত বেশ কিছুকাল ধরেই বাংলাদেশের রাজনীতিকরা তাদের হাতের পুতুল। সূতোর টানে ওঠেন  বসেন, চাবি দিলে নাচেন কুদেন। এ দেশে মতায় যেতে হলে আর্ন্তজাতিক মুরুব্বী লাগে। বেগম জিয়া এখন সেই মুরুব্বীহারা।

            সোভিয়েতের পতনের পর আমেরিকা বিশ্বে একমাত্র পরাশক্তি হয়ে পরায় গোটা বিশ্ব এখন আমেরিকার কব্জায়। হাতে গোনা কয়েকটা দেশ বাদে সকলেই আমেরিকার মন যুগিয়ে চলে। চীনও আমেরিকার এই সর্বভূক নীতির বিরোধীতা করে না। বা এ নিয়ে কোন বাধাবাধিতে যায় না। যদিও চীন এখন বিশ্বের অন্যতম অর্থনৈতিক সুপারপাওয়ার কিন্তু রাজনৈতিকভাবে আমেরিকার সাথে কোন বৈরীতায় যাওয়ার পরিবর্তে সমঝোতা এবং ভাগজোক করে খাওয়ার নীতি মেনে চলে।

            আফ্রিকা মহাদেশ নিয়ে আমেরিকার কোন মাথাব্যথা নাই। পুরোটাই পকেটে। উল্টো কাউকে পকেট থেকে বের করে ছুড়ে ফেলে দিলে কাউ মাউ করে। দণি আমেরিকায় দুইটা দেশ বাদে বাদ বাকিরা জ্ঞাতিগুষ্ঠি। ইউরোপ আবদ্ধ রক্ত আর আত্মিক বন্ধনে। অস্ট্রেলিয়াও জো হুকুম জাহাপনা।কাজেই যত খেলা গুটি চালাচালি এই এশিয়ায়। একমাত্র ইরান বাদে গোটা মধ্যপ্রাচ্য এখন তাদের কব্জায়। দুরপ্রাচ্য এবং দনি-পূর্বে চীনের সাথে কিছুটা ভাগাভাগি করতে হয়েছে। জাপান তোমার ব্যবসার প্রতিদ্বন্ধি অতএব ওটা আমার থাক। উত্তর কোরিয়া তোমার দনি কোরিয়া আমার।ভিয়েতনামে মার খেয়েছি ওখানে আর যাবো না, ফিলিপাইনটা আমি নিলাম। লাওস কম্বোডিয়া তুমি নাও ইন্দোনেশিয়া মালয়েশিয়া আমার থাক। থাইল্যান্ড আমার বার্মা তোমার। এসব দেশের দখলীস্বত্ব নিয়ে চীন আমেরিকার মধ্যে কোন বাধাবাধি নাই। ইরাকে গনতন্ত্র কায়েমের জন্য সাদ্দামসহ কয়েক ল লোককে হত্যা করা হলো, বার্মায় সামরিক জান্তা যুগের পর যুগ জেঁকে বসে আছে, নোবেলজয়ী সুকির জন্য শুধু মাঝে মাঝে মায়া কান্না। ওই পর্যন্তই। দুই কোরিয়ায় একটা যুদ্ধ বাধানোর চেষ্টা চলছে। শ্রেফ অস্ত্র বিক্রির জন্য। ইরাক যুদ্ধ শেষ হয়ে যাওয়ায় আর একটা ফ্রন্ট দরকার। পাকিস্তান ছিলো চীন বলয়ে। তালেবান ঠান্ডা করতে পাকিস্তানকে দরকার হয়ে পরেছে। তিব্বত নিয়ে ঝামেলা করা হবে না- এই সমঝোতায় চীন চলে এসেছে পাকিস্তান থেকে। থাকলো বাকি ভারত।

            এ দেশটা আগে ছিলো সোভিয়েত বলয়ে। সোভিয়েতের পতনের পর কিছু দিন একলা চলো নীতিতে চলেছে। চীনের সাথে দ্বন্ধ সেই সোভিয়েত যুগ থেকেই। এছাড়া হালে চীন ভারতের অন্যতম অর্থনৈতিক প্রতিদ্বন্ধী। তাই কৌশলগত কারনে ভারতকে এখন আমেরিকার সাথে গাঁটছড়া বাধতে হয়েছে। হালে ভারত দণি পূর্ব এশিয়ায় উদীয়মান পরাশক্তি। তাছাড়া বাংলাদেশটা পেটের মধ্যে হওয়ায় এ দেশের ওপর তাদের দাবীটা আরো জোড়ালো।

            সোজা কথায় বাংলাদেশ এখন সম্পূর্নভাবে আমেরিকা- ভারত বলয়ে ঢুকে গেছে। এখানে বেগম  

জিয়ার কোন জায়গা তাই থাকবে না এটাই হিসাবের কথা। আজ যে তার এবং তার পরিবারের ওপর হামলা এটা নিছকই শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা, ব্যপারটা তেমন নয়। এবারের টার্গেট বিএনপির রাজনীতি এ দেশ থেকে মুছে দেয়া। বিএনপির রাজনীতি কি, এটা এক তাত্বিক আলোচনার বিষয়। এ নিবন্ধে আমি সে আলোচনায় যাচ্ছি না। তবে বিএনপির নানা লেবেলের নেতা কর্মীদের বক্তৃতা ভাষণ কথা বার্তা শুনলে মনে হয়, আবার খাম্বা কোম্পানী আবার খাওয়া ভবন আবার লুটপাট আখের গোছানো, সে জন্যে যেভাবেই হোক আবার মতায় যাওয়া- এটাকেই বুঝি তারা বিএনপির রাজনীতি ধরে নিয়েছেন। মনে হয়না কেন বিএনপি, কি এ দলের রাজনীতির প্রোপট প্রয়োজনীয়তা,এসব সম্পর্কে তাদের কোন পরিষ্কার ধারনা আছে। এদের কাছে সরল অর্থ নেত্রীকে খুশী রেখে তার গুডবুকে যেতে হবে, নেত্রী বন্দনা করে তার নজরে আসতে হবে। হয়তো সে কারনেই আসল সমস্যায় না গিয়ে বেগম জিয়ার বাড়ী আর তারেক কোকোর মামলা নিয়ে এত মাতামাতি দাপাদাপি লাফালাফি।

            বিএনপির লোকেরা না জানলেও আওয়ামী লীগ এবং তাদের নেপথ্য পরিচালকরা ভালো করেই জানে কেন বিএনপি, কি বিএনপির রাজনীতি, কি সে রাজনীতির পটভূমি, কোত্থেকে এসেছে তা, কি এর ঐতিহাসিক প্রোপট। যারা ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ মেনে নিতে পারেনি, যারা -৪৭-এ এ অঞ্চলের জনগোষ্ঠীর পৃথক অস্তিত্বকে গিলতে বাধ্য হয়েছে, তারা -৭১-এ মনে প্রানে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় এবং এ ভুখন্ডের জনগোষ্ঠীর ভিন্ন জাতিসত্বাও মানে না। বিএনপি এবং এর রাজনীতি এবার তাদেরই প্রতিপ। এবং এই গোষ্ঠীটিই হালে বাংলাদেশের নিয়ন্তা।

            আমি মনে করি এ জাতির জন্য এক কঠিন ক্রান্তিকাল চলছে এখন। বেগম জিয়া এবং তার দলের মধ্য দিয়ে যে রাজনীতি পার্সনিফাইড, এ ক্রান্তিকাল স্বতন্ত্র এবং স্বাধীন জাতিসত্বার অস্তিত্ব টিকে থাকার সেই রাজনীতির। বেগম জিয়া এখন একা এ সময়ে। একা বলতে বোঝাচ্ছি আর্ন্তজাতিক মিত্রহারা।

            আমেরিকার গুডবুকে তিনি আর নাই। পাকিস্তান আটকে গেছে আমেরিকার ফাটা বাঁশে।মাঝে একবার ভারত বুকে টেনে নিয়েছিলো, কিন্তু সে যাত্রা তিনি তাদের কোন কাজ করে দিতে পারেন নাই। উল্টো সেভেন সিস্টারের মুক্তিযোদ্ধাদেরকে মদদ যুগিয়েছেন বলে তার বিরুদ্ধে এন্তার অভিযোগ। এখন পলিসি বদলেছে। অনেক দিনের পুরনো ফাইলটা তুলে এনে ঝাড়পোছ করা হয়েছে।এ প্রজেক্ট বাস্তবায়নে বেগম জিয়াই একমাত্র বাধা।

            বেগম জিয়া কিছু দিন আগে একবার সৌদি আরব গেছিলেন। কাজ কিছু হয়েছে বলে মনে হয় না। না হওয়ারই কথা। ওই রাজবংশটি নিজেরাই এখন আমেরিকার অনুগ্রহের ওপর বেঁচে আছে।কাল যদি সৈন্য উঠিয়ে নিয়ে আসে পরশু ইরান এক থাবা মেরে তা নিয়ে নেবে। বাদশা ভালভাবেই জানেন বাংলাদেশের ব্যপারে আমেরিকার পলিসি। এখানেও চাচা আপন পরান বাঁচা। খামাখা ধমক খেতে যায় কে!

            তবে কি মনে করা যেতে পারে বেগম জিয়ার এই অবস্থায় চীন এগিয়ে এসেছে তার সাহায্যে! এটা তো বোঝা যায় পাঁচ দিন তিনি শুধু চিকেন লেগ আর ফ্রাইড রাইস খান নাই, মিউজিয়াম দেখে রেলে চড়েই সময় কাটান নাই। গুরুত্বপূর্ন নেতাদের সাথে বৈঠক করেছেন। একান্তে কথা বলেছেন। পত্রিকার রিপোর্টে জানা গেছে দক্ষিন এশিয়ার বিভিন্ন রাজনৈতিক বিষয়-  নিয়েও তিনি চীনা নেতাদের সাথে আলাপ করেছেন। দণি এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশও আছে। বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও যে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে এটাও বলাই বাহুল্য। এবং সব শেষে চীনা নেতারা বেগম জিয়াকে তাদের -বিশেষ বন্ধু- হিসেবে অভিহিত করে আবারও তাকে চীন সফরে আমন্ত্রন জানিয়েছেন।

            চীন কখনও বাংলাদেশের অভ্যন্তরীন বিষয়ে নাক গলায় না। বিশেষ করে মতার পালাবদল বা কাকে বসাতে হবে কাকে তাড়াতে হবে এসব ব্যপারেও তাদেরকে কখনও ভূমিকা রাখতে দেখা যায়নি। তাছাড়া বাংলাদেশের কোন ব্যপার নিয়ে চীন এ মূহুর্তে আমেরিকা বা ভারতের সাথে বাধাবাধিতে যাবে এমনটাও হিসাবে বলে না। তারপরও দেশের এই রকম একটা ক্রান্তিকালে তারা বেগম জিয়াকে ডেকে নিয়ে এই মাখামাখিটা প্রকাশ করলো কেন, তাৎপর্যটা এখানেই। বেগম জিয়া চীনের বিশেষ বন্ধ, এটা প্রচার করে কি প্রকারান্তরে দিল্লী ওয়াশিংটনের ওপর একটা মনস্তাত্বিক চাপ সৃস্টি করলো তারা! প্রশ্ন তো উঠবেই, তবে কি বাংলাদেশকে নিয়ে তাদের কোন চিন্তাভাবনা আছে! সেভেন সিস্টারের মুক্তিযোদ্ধারা তাড়া খেয়ে বাংলাদেশে এসে শেল্টার নিতো। ভারত এবার তাদেরকে ধরে ধরে নিয়ে যাচ্ছে। ভারত মনে করে সেভেন সিস্টারের স্বাধীনতা সংগ্রামীদেরকে চীন মদদ যোগায়। যদি তাই হয় ওই মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে চীনের সম্পর্ক আছে। তাই সব মিলিয়ে বেগম জিয়ার এ সফরকে নিছক হাওয়া খাওয়ার সফর হিসেবে নিতে পারছি না।

            এ সফর নিয়ে অবশ্য এখন পর্যন্ত আমেরিকা বা ভারতের প থেকে কোন প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয় নাই। সেটাই স্বাভাবিক। কোন মন্তব্য করলেই এ অঞ্চলের রাজনীতিতে চীনের নাক গলানোকে স্বীকৃতি দেয়া হয়। আমেরিকা ভারত কাঁচা প্লেয়ার নয়। হুট করে না বুঝে কিছু বলবে না। আমেরিকা ভারত কিছু বলে নাই সঙ্গত কারনেই আমাদের প্রধানমন্ত্রীও চুপ। নইলে যে মুখ তার, হয়তো চীনেরই চৌদ্দগুষ্ঠি উদ্ধার করে ছাড়তেন এত দিনে। সঙ্গে সঙ্গে আনাচে কানাচে থেকে হুক্কা হুয়াও শুরু হয়ে যেতো। হয়তো বেগম জিয়ার চীন সফরকে যুদ্ধাপরাধি বিচার বাঞ্চালের চেষ্টা বলেও গালমন্দ করা হতো। ধারনা করি এখনো রিসার্চ এন্ড এনালিটিকাল উইংয়ে রিসার্চ এবং এনালাইসিস চলছে। ওখান থেকে রেজাল্ট না আসা পর্যন্ত সবাই চুপচাপই থাকবেন।

            মতাসীন দল বা জোটের নেতা নেত্রীরা কে কি বললেন তা নিয়ে ইদানীং আমি মাথা ঘামাই না। এরা সেটাই বলেন যা তাদেরকে বলতে বলা হয়। অনেকে এমন কথা বলেন যার অর্থ তারা নিজেরাই বোঝেন বলে মনে হয় না। তবে এদের বক্তৃতা ভাষণ কথা বার্তা শুনে বোঝার চেষ্টা করি-র-য়ের মতিগতি কর্মকৌশল। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ বুঝতে হলে ওটাই জানা দরকার।

            বাংলাদেশে আগামী দিনের যে সংগ্রাম লড়াই তার চিত্রটা এখনো অষ্পষ্ট। তবে লড়াই যে একটা হবে সে আলামত দিনে দিনে স্পষ্ট হয়ে উঠছে। কেউ বলেন গৃহযুদ্ধ বাধবে, কারো ধারনা ভারত নিয়ে নেবে দেশটা, কেউ মনে করেন একটা দণিপন্থী অভ্যুত্থান হবে। আমি এত আগে এ ব্যপারে কোন ধারনা দিতে পারবো না। তবে, যে মানুষ জাতিসত্বার পরিচয় মুছে দেয়ার চেষ্টা বায়ান্ন একাত্তুরে বুকের রক্ত দিয়ে ঠেকিয়েছে, আর একবারও যে তারা গর্জে উঠবে এটা ধরে নেয়া যায়। এ লড়াইতে একজন বন্ধুর দরকার হবে।

            কে হবে বাংলাদেশের জনগনের সেই বন্ধুটি!