খালেদা জিয়া: বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রথম মুক্তিযোদ্ধা

আজ ২৪ শে মার্চ। ১৯৭১ সালের এই দিনে চট্টগ্রামের ৮ম ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে ঘটেছিলো এক অনন্য সাধারন ঘটনা। যে ঘটনার মূল্যায়ন হয়নি আজো। লেখা হয়নি স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলে।

ঐ দিন বিকেল চারটার সময় অস্ত্রাগারের পাহারায় হাবিলদার কাদের ও সিপাহী নুরুল হক। পূর্বপাকিস্তানের অন্যান্য সেনানিবাসের বাঙ্গালি ইউনিটের অস্ত্র পশ্চিমা ইউনিটে জমা করার কায়দায় ১৭ বেলুচ থেকে সৈনিকরা আসে এই অস্ত্রাগারের অস্ত্র নিয়ে যেতে। আর তখন আদেশ আনার জন্য হাবিলদার কাদেরদের নির্দেশে সিপাহী নুরুল হক ছুটে যায় সেকেন্ড ইন কমান্ড মেজর জিয়ার বাসায়। সেখানে জিয়া ছিলেন না। বেগম জিয়া জানতে চান - কি হয়েছে। ঘটনা শোনার পরে খালেদা জিয়া পরিস্কার নির্দেশ দেন, “মেজর জিয়ার হুকুম ছাড়া একটা সুইও ষোলশহর থেকে বাইরে যাবে না!” নূরুল হক ছুটে চলেন এবং কাদেরকে এই খবর জানান। ততক্ষণে বেলুচের সৈন্যরা ৭৬ ও ৭৭ আর আর রাইফেল তাদের গাড়িতে তুলে ফেলে। কিন্তু বেগম জিয়ার নির্দেশ পালন করতে গিয়ে হাবিলদার কাদের যখন বেলুচের গাড়িতে গুলি করার উদ্যোগ নেয়, তখন বেলুচের সৈন্যরা সব অস্ত্র রেখে যায়। অথচ ঐ অস্ত্র সরানোর জন্য কমান্ডান্ট জানজুয়ার হুকুম ছিল। কমান্ডিং অফিসারের হুকুমও খালেদা জিয়ার নির্দেশের কাছে অগ্রাহ্য হয়ে যায়।

আর এর ফলে রক্ষা পায় ৮ম ইস্ট বেঙ্গলের ১১০০ সৈন্য এবং মেজর জিয়া। খালেদা জিয়ার ঐ তাৎক্ষনিক সিদ্ধান্ত না হলে পুরো ৮ম বেঙ্গল অস্ত্রহীন হয়ে পরত, এমনকি মেজর জিয়ার পক্ষে স্বাধীনতা ঘোষনা করা, মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়া সবকিছু বানচাল হয়ে যেতো।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এই ঘটনাটি একটি মাইল ফলক। এবং কমান্ডার না হয়েও কমান্ডারের ভুমিকা নিয়েছিলেন গৃহবধু খালেদা জিয়া। বাংলাদেশের প্রথম মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে তাই সালাম জানাতে হয় বেগম খালেদা জিয়াকে।

[পরবর্তীতে ৩৯৩৫৮৭৭ হাবিলদার নূরুল হক (অবঃ) তার দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে স্বাধীনতা যুদ্ধের উষালগ্নের সে দিনগুলি এবং পরবর্তীকালের যুদ্ধের স্মৃতিচারন করছিলেন।]