মুখোমুখি : সামনা সামনি : চোখে চোখ রেখে কথা

এক দেশ – দুই নেতা।
দুই রহমান: বাংলাদেশের দুই সৈনিক।
একজন আপোষকামী। আরেকজন আপোষহীন।
একজন ধরা দিয়েছেন। আরেকজন বিদ্রোহ করেছেন।
একজন জনতাকে উত্তেজিত করে ক্ষমতায় যেতে চেয়েছেন। দেশ বাঁচাতে অন্যজন অস্ত্র নিয়ে ঝাপিয়ে পরেছেন।
একজন নিজের লোকদের শরনার্থী বানিয়েছেন। নিজের লোক নিয়ে অন্যজন যুদ্ধের ময়দানে চললেন।
একজন চাইলেন পাকিস্তান কনফেডারেশন। অন্যজন বাংলাদেশকে স্বাধীন ঘোষণা করলেন।
একজন মুক্তদেশে ফিরেই ক্ষমতায় বসলেন। যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করলেন অন্যজন।
একনেতা দেশ চালাতে গিয়ে চরমভাবে ব্যর্থ হলেন। রাষ্ট্র পুনর্গঠনে চুড়ান্তভাবে সফল হলেন অন্যজন।
একজন দুর্ভিক্ষে লাখ লাখ মানুষ মারলেন। সবুজ বিল্পব দিয়ে ফসল ফলিয়ে অন্যজন খাদ্যে স্বয়ম্ভর করলেন।
একজন রক্ষী বাহিনী দিয়ে তিরিশ হাজার হত্যা করেছেন। সারাদেশ থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করলেন অন্যজন।
একজন গণতন্ত্র হত্যা করে একদলীয় শাসন জারী করলেন। বিলুপ্ত সেই গণতন্ত্র অন্যজন ফিরিয়ে দিলেন।
একজনের সময় দেশের টাইটেল হয় তলাবিহীন ঝুড়ি। ঝুড়িতে তলা লাগিয়ে অন্যজন করেছেন চাল রফতানী।
একজন রিলিফের সি-প্লেন আর হেলিকপ্টারে ঘুরে বেড়ান। সারা বাংলা পায়ে হাটলেন অন্যজন।
একজন কেবল চাটার দল নিয়ে দেশ চালিয়েছেন। অন্যজন সবাইকে নিয়ে জাতীয় ঐক্যমত তৈরী করেছেন।
একজন নিজের কম্বলটাও খুঁজে পান নি। অন্যজন দেখিয়ে দিয়েছেন সততা কাহাকে বলে।
একজন হীরার মুকুট দিয়ে ছেলে বিয়ে দিলেন। নিজের জামা কেটে সন্তানদের পরিয়েছেন অন্যজন।
একজনের সময় টেবিলে অস্ত্র রেখে সব হয় তিহাত্তর পাশ। অন্যজন গণশিক্ষায় সাক্ষর করালেন বাংলাদেশ।
একজন ফারাক্কার অনুমতি দিয়ে উত্তরবঙ্গ বানালেন মরুভূমি। অন্যজন গ্যারন্টি সহ পানি আনলেন মরা পদ্মায়।
একজন মেনে চললেন সাউথ ব্লকের শাসন। সার্ক বানিয়ে দাদাগিরির গলা টিপে ধরলেন অন্যজন।
একজনের মৃত্যুর পরে নিজের দলই বলে ফেরাউনের পতন। অন্যজনের শাহাদতে সারা দেশ ও পৃথিবী হয় শোকে মুহ্যমান।
যেখনেই মুজিব ব্যর্থ, সেখানেই সফল হলেন জিয়া।

আওয়ামীলীগের দাবী, শেখ মুজিবের ব্যক্তিত্ব ছিলো নাকি পর্বতের মতন। কিন্তু, জিয়াই সেই ব্যক্তি, যিনি মুজিবের চোখে চোখ রেখে কথা বলতে পারতেন। ক্যাপ এবং সানগ্লাস না নামিয়ে মুজিবের সাথে কেবল সমানে সমান নয়, চলেছেন এক ডিগ্রি বেশী। আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এবং যুদ্ধকালীন প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান রাজনৈতিক নেতা তাজউদ্দীন পর্যন্ত স্বাধীন দেশে মুজিবের হাতে যখন বিতাড়িত, তিরস্কৃত; সেই সময় মুজিবের সামনে জিয়ার স্মার্টনেস ছিল এমনি।
ষোলো বছরের কনিষ্ঠ হলেও কৃতিত্ব, অবদান ও যোগ্যতার বিচারে দ্বিতীয় জন প্রথম জনের চেয়ে এগিয়ে গেছেন অনেক বেশী।
বাংলাদেশের সর্বকালের সফল যোগ্য নেতা – শহীদ জিয়া। জিয়াউর রহমান।।